ধারা ২৩ঃ দলিল দাখিলকরণের সময়

ধারা ২৪, ২৫ এবং ২৬ এর বিধানাবলি সাপেক্ষে, উইল ব্যতীত অন্য কোন দলিল যদি উহা সম্পাদনের তারিখ হইতে [২৪] [তিন মাসের] মধ্যে উপযুক্ত কর্মকর্তার নিকট নিবন্ধনের উদ্দেশ্যে দাখিল করা না হয়, তাহা হইলে উহা নিবন্ধনের জন্য গৃহীত হইবে না :

তবে শর্ত থাকে যে, ডিক্রি বা আদেশের নকল, ডিক্রি বা আদেশ দানের তারিখ হইতে [২৫] [তিন মাসের] মধ্যে, বা, যেক্ষেত্রে উহা আপিলযোগ্য, সেইক্ষেত্রে আপিল চূড়ান্ত হওয়ার তারিখ হইতে [২৬] [তিন মাসের] মধ্যে দাখিল করা যাইবে।

টীকা (১) : “সম্পাদনের তারিখ হইতে ৩ (তিন) মাস সময়ের গণনা” – এই ধারা অনুসারে দাখিল করিবার জন্য প্রদত্ত ৩ (তিন) মাস সময় গণনায় যে দিবসে দলিলটি সম্পাদিত হইয়াছে সেই দিবসটি বাদ যাইবে [জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এর ৯(১) ধারা দ্রষ্টব্য]। যদি ৩ (তিন) মাসের নির্দিষ্টসময়সীমা এমন দিনে শেষ হয় যেদিন নিবন্ধন কার্যালয় বন্ধ থাকে, তাহা হইলে দলিলটি নিবন্ধন কার্যালয়ের অব্যবহিত পরবর্তী কার্যদিবসে দাখিল করিতে হইবে [জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট, ১৮৯৭ এর ১০ ধারা দ্রষ্টব্য]।

টীকা (২) : “মাস (Month)” শব্দটি জেনারেল ক্লজেস অ্যাক্ট এর ৩(৩৩) ধারায় ব্রিটিশ পঞ্জিকা অনুযায়ী গণনাকৃত মাস অর্থে বর্ণিত হইয়াছে।

টীকা (৩) : যে পদ্ধতিতে পঞ্জিকা মাস গণনা করিতে হইবে তাহা এইরূপ: যদি একটি পঞ্জিকা মাস যে কোন মাসের প্রথম দিবস হইতে শুরু হয়, তাহা হইলে উহা উক্ত মাসের শেষ দিবসে সমাপ্ত হয়। অতএব, যদি উহা মাসের দ্বিতীয় দিবসে শুরু হয়, তবে একটি পঞ্জিকা মাস পরবর্তী মাসের প্রথম দিবসে শেষ হয়। যদি ইহা তৃতীয় দিবসে শুরু হয়, তাহা হইলে দ্বিতীয় দিবসে শেষ হয় এবং অনুরূপভাবে অব্যাহত থাকিবে।

নিম্নবর্ণিত উদাহরণসমূহে এই নীতি অনুসরণ করা হইয়াছে। উপরের ব্যাখ্যা অনুসারে প্রথম দিবসটি (সম্পাদনের তারিখ) বাদ দেওয়া হইয়াছে :

সম্পাদনের তারিখ২৩ ধারামতে দাখিলের সর্বশেষ তারিখ ৩ মাস গণনার শেষ তারিখ
২৭শে ফেব্রুয়ারি ২৬শে মে২৭শে মে
ফেব্রুয়ারির শেষ দিবস৩০শে মে ৩১শে মে
৩১শে মার্চ২৯শে জুন৩০শে জুন
২৯শে আগস্ট ২৮শে নভেম্বর  ২৯শে নভেম্বর
২৯শে নভেম্বর বা ৩০শে নভেম্বর২৮শে ফেব্রুয়ারি বা ২৯শে ফেব্রুয়ারি, যদি অধিবর্ষ হয়১লা মার্চ

টীকা (৪) : “সম্পাদনের তারিখ (Date of execuation)” একটি দলিলের সম্পাদনের তারিখ হইল সংশ্লিষ্ট পক্ষ কর্তৃক স্বাক্ষরিত হওয়ার তারিখ এবং দলিলের শীর্ষে যে তারিখটি থাকে উহাকে সম্পাদনের তারিখ বলিয়া মনে হইলেও কার্যত তাহা নহে। এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, ডিক্রির তারিখ হইল প্রকৃত পক্ষে উহা স্বাক্ষরিত হওয়ার তারিখ (৪১ সি.ডব্লিউ.এন ৯৪৫)। অনুরূপভাবে এই ধারার উদ্দেশ্য পূরণকল্পে, বিক্রয় চূড়ান্ত হওয়ার তারিখটি বয়নামার তারিখ নহে বরং যে তারিখে বয়নামাটি প্রকৃতপক্ষে স্বাক্ষরিত এবং অনুমোদিত হইয়াছিল তাহাই বয়নামার তারিখ। – ১৮৮৩, ৫ এলা. ৮৪।

টীকা (৫) : “নিবন্ধন সম্পন্নকরণ বা অগ্রাহ্যকরণের জন্য কোন সময়সীমা নাই” দলিল দাখিলকরণের জন্য সর্বোচ্চ সময় ৭ মাস (ধারা ২৫) এবং সম্পাদনকারীগণের নিবন্ধনকারী কর্মকর্তার সম্মুখে হাজির হওয়ার জন্য ১১ মাস (ধারা ৩৪ এর শর্তাংশ)। কিš‘ নিবন্ধনের জন্য দাখিলকৃত এবং গৃহীত দলিল কতদিনের মধ্যে অবশ্যই নিবন্ধন করিতে হইবে তাহার কোন সময়সীমা নাই এবং প্রকৃতপক্ষে, আইনের আবশ্যকতার প্রকৃতি হইতে ইহা স্থির করা সম্ভব হয় নাই কোন সময়সীমার মধ্যে নিবন্ধন অবশ্যই সম্পূর্ণ করিতে হইবে। – ২ আই.এ ২১০, ২১৮; ২৪ ডবিøউ.আর ৭৫, ৭৮।

অনুরূপভাবে, কোন্ সময়সীমার মধ্যে অগ্রাহ্যকরণের আদেশ প্রদান করিতে হইবে তাহার জন্যও কোন সময় সীমা নির্ধারিত নাই, কিন্তু ইহা সুস্পষ্ট যে, প্রকাশ্য অস্বীকৃতির ক্ষেত্র ব্যতীত দলিল গ্রাহ্য করিবার জন্য অনুমোদিত সময় অবসান হওয়ার কিছুকাল পরে অগ্রাহ্যের আদেশ প্রদান করিতে হইবে। – ১৬ ক্যালকাটা ১৮৯, ১৯৩।

টীকা (৬) : ডাকযোগে প্রেরিত দলিল গৃহীত হইবে না। ৮৮ ধারার অধীন প্রেরিত দলিল ব্যতীত, নিবন্ধনের জন্য যে কোন দলিল সংশ্লিষ্ট পক্ষ কর্তৃক ব্যক্তিগতভাবে দাখিল করিতে হইবে।

[২৪] নিবন্ধন (সংশোধন) আইন, ২০০৪ (২০০৪ সনের ২৫নং আইন) এর ধারা ৬ দ্বারা ‘‘চার মাস’’ শব্দগুলির স্থলে ‘‘তিন মাস’’ শব্দগুলি প্রতিস্থাপিত।

[২৫] ঐ।

[২৬] ঐ।