দলিলের তথ্য তল্লাশ প্রক্রিয়া
নিবন্ধন আইন ১৯০৮ এর ধারা ৫৭ অনুযায়ী তল্লাশ ও পরিদর্শনের বিধান
তল্লাশ ও নকলের ধাপসমূহ
- 1
প্রয়োজনীয় তথ্য নির্ধারণ
কোন দলিলের তল্লাশ প্রয়োজন তা ঠিক করুন। মূল দলিল থাকলে শেষ পাতার উল্টোদিক থেকে দলিলের সাল, বালাম বই নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বর নোট করুন। মূল দলিল না থাকলে দাতা/গ্রহীতার নাম, মৌজার নাম ও জমির বিবরণ সংগ্রহ করুন।
- 2
তল্লাশ ও পরিদর্শনের আবেদন (ফরম ৩৬)
সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে ৩৬ নং ফরম পূরণ করে তল্লাশ ও পরিদর্শনের আবেদন জমা দিন এবং নির্ধারিত ফি পরিশোধ করুন।
- 3
তল্লাশ সম্পন্ন করুন
আবেদনকারী নিজে অথবা সনদপ্রাপ্ত তল্লাশকারক বা দলিল লেখকের মাধ্যমে ১/২/৩/৪ নং রেজিস্টার বহি এবং সূচিবহি থেকে দলিলের তথ্য অনুসন্ধান করুন। খুব পুরাতন দলিল হলে জেলা রেকর্ড রুমে যোগাযোগ করতে হতে পারে।
- 4
তল্লাশের ফলাফল নোট করুন
তল্লাশে প্রাপ্ত দলিলের নম্বর, সাল, বালাম বই নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বর সঠিকভাবে নোট করে রাখুন। এই তথ্য নকলের আবেদনে প্রয়োজন হবে।
- 5
নকলের আবেদন (ফরম ৩৭)
তল্লাশে রেকর্ড মিললে ৩৭ নং ফরমে নকলের জন্য আবেদন করুন। দলিল নম্বর, বালাম বই নম্বর ও পৃষ্ঠা নম্বর সঠিকভাবে পূরণ করে নকল ফি জমা দিন।
- 6
নকল সংগ্রহ ও যাচাই
সার্টিফাইড কপি প্রস্তুত হলে রশিদ দেখিয়ে অফিস থেকে সংগ্রহ করুন। প্রতিটি পাতায় সাব-রেজিস্ট্রারের সিল ও স্বাক্ষর আছে কিনা যাচাই করুন।
তল্লাশ ও পরিদর্শন ফি তালিকা
| বিবরণ | ফি (৳) |
|---|---|
| এফ(১) — সূচিবহি তল্লাশ ফি (এক বৎসরের জন্য) | ২০ |
| একাধিক বৎসরের ক্ষেত্রে — অতিরিক্ত প্রতিটি বৎসর | ১৫ |
| এফ(২) — রেজিস্টার বহি পরিদর্শন ফি (প্রতি দলিল) | ১০ |
| কোর্ট ফি | ২০ |
উদাহরণ: ৩ বৎসরের তল্লাশ ফি (২০১০-২০১২)
মৌজার নাম ও দাগ নম্বর দিয়ে ২০১০-২০১২ সালের দলিল তল্লাশ করলে:
| বিবরণ | ফি (৳) |
|---|---|
| এফ(১) — প্রথম বৎসর (২০১০) | ২০ |
| এফ(১) — অতিরিক্ত বৎসর (২০১১) | ১৫ |
| এফ(১) — অতিরিক্ত বৎসর (২০১২) | ১৫ |
| এফ(২) — পরিদর্শন ফি (প্রতি দলিল) | ১০ |
| কোর্ট ফি | ২০ |
| তল্লাশ ও পরিদর্শন মোট | ৮০ |
বিশেষ দ্রষ্টব্য
- তল্লাশ আবেদনকারী নিজে অথবা সনদপ্রাপ্ত তল্লাশকারক বা দলিল লেখকের মাধ্যমে করতে হয়।
- কোন নির্দিষ্ট অফিসের সূচিবহিতে অন্তর্ভুক্ত কোন একটি নাম বা সম্পত্তির বিবরণ তল্লাশির ক্ষেত্রে ফি'র পরিমাণ ১৫০ টাকার অধিক হবে না।
- যদি কোন আবেদনকারী কোন নির্দিষ্ট বৎসরের নির্দিষ্ট কোন ভুক্তি তল্লাশির জন্য আবেদন দাখিলক্রমে আবেদনে নিরূপিত প্রাপ্যতার অধিক ভুক্তি সম্পর্কে টোকা গ্রহণ করে, তাহলে তাকে আবেদনকালীন সময় জমাকৃত ফি বাদ দিয়া মোট ১৫০ টাকা পরিশোধ করিতে হইবে।
- নকল সংগ্রহের আবেদনের সহিত নিবন্ধিত মূল দলিল বা উহার সত্যায়িত অনুলিপি দাখিল করলে, কিংবা নিবন্ধনের সময় নকলের আবেদন করলে কোন তল্লাশি ফি প্রদান করিতে হইবে না।
- ধারা ৭২, ধারা ৭৩ ও ধারা ৭৪ অনুসারে কোন মামলা সংক্রান্ত নথিপত্র পরিদর্শনে দফা এফ(২) অনুসারে কেবলমাত্র একটি পরিদর্শন ফি প্রদান করিতে হইবে।
- তল্লাশ ও পরিদর্শন ব্যতীত সরাসরি নকলের আবেদন করা হলেও এফ(১) ও এফ(২) ফি পরিশোধ করতে হবে।
- ৩ নং ও ৪ নং বহিতে লিখিত বিষয়ের তল্লাশ সাব-রেজিস্ট্রারের মাধ্যমে করতে হবে।
প্রয়োজনীয় নথিপত্র
- •পূরণকৃত আবেদনপত্র (ফরম ৩৬)
- •আবেদনকারীর জাতীয় পরিচয়পত্রের কপি
- •দলিলের তথ্য (নম্বর, সাল, দাতা-গ্রহীতার নাম, মৌজা)
- •ফি জমাদানের রশিদ
- •২০ টাকার কোর্ট ফি স্ট্যাম্প
সতর্কতা ও পরামর্শ
- তল্লাশের আগে যতটুকু তথ্য সম্ভব সংগ্রহ করুন — তথ্য যত নির্দিষ্ট হবে, তল্লাশ তত দ্রুত হবে।
- তল্লাশের ফলাফল সঠিকভাবে নোট করুন — ভুল তথ্যে নকল আবেদন গৃহীত হবে না।
- খুব পুরাতন দলিল সাব-রেজিস্ট্রি অফিসে না পেলে জেলা রেকর্ড রুমে খোঁজ করুন।
- ফি জমার সকল রশিদ সংরক্ষণ করুন।
আইনি রেফারেন্স
ধারা ৫৭, টীকা (১):
পরিদর্শন বাবদ প্রদেয় ফিস পূর্বে প্রদান সাপেক্ষে, ১ ও ২ নং রেজিস্টার বহি এবং সূচিবহি জনসাধারণের পরিদর্শনের জন্য উন্মুক্ত থাকিবে। ৩ ও ৪ নং রেজিস্টার বহি এবং উহাদের সূচিসমূহ সর্বসাধারণের পরিদর্শন ও তল্লাশির জন্য উন্মুক্ত থাকিবে না। ৩ ও ৪ নং রেজিস্টার বহি ও উহাদের সূচিবহিতে লিপিবদ্ধ বিষয়সমূহের তল্লাশি কেবল নিবন্ধনকারী কর্মকর্তা কর্তৃক সম্পন্ন হইবে।
ধারা ৫৭, টীকা (২):
৩ নং রেজিস্টার বহি এবং উহার সূচির নকল সম্পাদনকারীর জীবিতাবস্থায় কেবল সম্পাদনকারী বা তাহার এজেন্টকে দেওয়া যাইবে এবং তাহার মৃত্যুর পর যে কোন আবেদনকারীকে দেওয়া যাইবে। ৪ নং রেজিস্টার বহির বিষয়বস্তু ও উহার সূচির নকল সম্পাদনকারী বা গ্রহীতা কিংবা তাহার নিযুক্তক বা প্রতিনিধির নিকট দেওয়া যাইতে পারে।
ধারা ৫৭, টীকা (৩):
৫ নং রেজিস্টার বহিতে (উইল জমাকরণের রেজিস্টার) লিপিবদ্ধ বিষয় পরিদর্শন বা লিপিবদ্ধ বিষয়াদির নকল মঞ্জুর করিবার কোন বিধান নাই।
অনুচ্ছেদ ১৭৩ — তল্লাশ ও নকল আবেদন পদ্ধতি:
(ক) নকলের আবেদনকারী স্বয়ং তল্লাশ করিতে না চাহিলে পৃথক আবেদনের প্রয়োজন নাই, তবে নকলের আবেদনের ৯ম কলামে চ(১) ও চ(২) ফি লিপিবদ্ধ করিতে হইবে। (খ) পূর্বে তল্লাশ ফি পরিশোধ ও তল্লাশ সম্পন্ন করিয়া নকলের আবেদন করিলে নতুন তল্লাশ ফি ধার্য হইবে না। (গ) তল্লাশ বা পরিদর্শন আবেদনের তারিখ হইতে ২০ দিনের মধ্যে সমাপ্ত করিতে হইবে। (ঘ) সাধারণত আবেদনকারী নিজে তল্লাশ করিবেন। নিরক্ষর হইলে কার্যালয় কর্তৃক বা সনদপ্রাপ্ত দলিল লেখক বা আইনজীবী দ্বারা তল্লাশ করাইতে হইবে।
অনুচ্ছেদ ১৮৫ — তল্লাশের সীমাবদ্ধতা:
(ক) তল্লাশের ফিস প্রদানে আবেদনকারী ভুক্তি পড়িবার অধিকারপ্রাপ্ত হইবেন, কিন্তু নকল লইবার অধিকার পাইবেন না। দলিল চিহ্নিত করিবার টীকা সংগ্রহ করিতে পারিবেন। তল্লাশ নিষ্ফল হইলে ফিস ফেরত হইবে না। (খ) পরিদর্শনে দলিল সনাক্তের জন্য পক্ষগণের নাম, সম্পত্তির পরিমাণ, পণ মূল্য, দলিল নম্বর, ভলিয়ম নম্বর, পৃষ্ঠা নম্বর, নিবন্ধনের তারিখ ইত্যাদি চিরকুটে পেন্সিল দ্বারা লিখিতে পারিবেন।
অনুচ্ছেদ ১৮৬ — তল্লাশ ফি মওকুফ:
নিম্নবর্ণিত ক্ষেত্রে তল্লাশ বা পরিদর্শন ফি ধার্য করা যাইবে না — (ক) নিবন্ধনের জন্য গ্রাহ্য হইয়াছে কিন্তু বহিতে নকল হয় নাই; (খ) দাখিল হইয়াছে কিন্তু নিবন্ধনের জন্য গ্রাহ্য হয় নাই; (গ) নিবন্ধন অগ্রাহ্য হওয়ার সময় আবেদন করা হইয়াছে।
রেজিস্ট্রেশন বিধিমালা ২০১৪, অনুচ্ছেদ ১০৮:
নকলের আবেদনের আগে ৩৬ নং ফরম অনুযায়ী তল্লাশ ও পরিদর্শনের আবেদন করতে হবে। এরপর ৩৭ নং ফরমে নকলের জন্য আবেদন করতে হবে।