ভ্রম সংশোধন
আদালত কর্তৃক দলিলের ভুল বা ভ্রম সংশোধন এর নিয়ম কি?
জমি রেজিস্ট্রি করার পর অনেক সময় দেখা যায় দলিলে কোন জায়গায় হয়তো ভুল হয়েছে। দলিল রেজিস্ট্রির পর তাতে দাগ, খতিয়ান, মৌজা, চৌহদ্দি বা নামের বড় ধরনের কোন ভুল ৩ বছরের মধ্যে ধরা পড়লে তা খুব সহজেই সংশোধন করা যায়। এরূপ ভুল হওয়ার ৩ বছরের মধ্যে দেওয়ানি আদালতে দলিল সংশোধনের মামলা করতে হবে। ৩ বছর পর এরূপ মামলা তামাদির দ্বারা বারিত হয়ে যায়। তাই তখন আর সংশোধন মামলা করা যায় না, তবে ঘোষণামূলক মামলা করা যায়। এরূপ মামলার রায়ই হল সংশোধন দলিল।
রায়ের ১ কপি আদালত হতে সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার এর নিকট পাঠানো হলে সাব-রেজিস্ট্রার উক্ত রায়ের আলোকে সংশ্লিষ্ট ভলিউম সংশোধন করে নিবেন, ফলে নতুন করে কোন দলিল করার আর কোন প্রয়োজন নেই (সুনির্দিষ্ট প্রতিকার আইন ৩১ ধারা)।
ভ্রম সংশােধন দলিলে স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফের বিধান কি?
১৮৯৯ সনের স্ট্যাম্প আইনের ১৬ ধারা মােতাবেক স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফ করতঃ বিক্রয় কবলা, বন্ধক এবং সেটেলমেন্ট দলিলের বস্তুগত পরিবর্তন সাধন করে না, এরূপ ত্রুটি সংশােধনে স্ট্যাম্প আইনের ১ নং তফসিলের ৫ নং আর্টিকেল অনুসারে ৩০০/- টাকা স্ট্যাম্প শুল্ক প্রদেয় হয়। এ তিন প্রকার দলিল ভিন্ন অন্য কোন দলিলের জন্য এরূপ কোন সুবিধার ব্যবস্থা নেই। তবে স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফের জন্য ১০/- টাকার কোর্ট ফিসহ আবেদন করতে হবে। অন্য দলিলের ক্ষেত্রেও স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফ না করে ভ্রম সংশােধন দলিল রেজিস্ট্রি করা সম্ভব। উল্লেখ্য, স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফের আবেদন করা না হলে মূল দলিলের ন্যায় স্ট্যাম্প শুল্ক আদায়যােগ্য।
সাব-রেজিস্ট্রার কর্তৃক দলিলের ভুল বা ভ্রম সংশোধন এর নিয়ম কি?
দলিল রেজিস্ট্রির পর তাতে দাগ, খতিয়ান বা অন্য কোন ছোট-খাটো ভুল ধরা পড়লে এবং যে ভুল সংশোধন করলে দলিলের মূল কাঠামো বা স্বত্বেও কোন পরিবর্তন ঘটবে না সেরূপ ভুল সংশোধনের জন্য সংশ্লিষ্ট সাব-রেজিস্ট্রার বরাবরে আবেদন করা যাবে। সাব-রেজিস্ট্রার এই ধরনের ছোট-খাটো ভুল বা ভ্রম সংশোধন করতে পারেন।