বন্ধকী দলিল
আর্থিক প্রতিষ্ঠান বলতে কি বুঝায়?
- শিল্প, বাণিজ্য, কৃষি বা গৃহায়ণের জন্য ঋণ বা অগ্রিম প্রদান করে; অথবা
- শেয়ার স্টক, বন্ড, ডিবেঞ্চার বা ডিবেঞ্চার স্টক বা সিকিউরিটিজ ব্যবসা পরিচালনা, গ্রহণ বা আন্ডার রাইটিং, বিনিয়ােগ অথবা পুনঃবিনিয়ােগে নিয়ােজিত অথবা সরকার কর্তৃক কোন বিধিবদ্ধ সংস্থার ইস্যুকৃত অন্য কোন সিকিউরিটিজ বাজারজাত করণে নিয়ােজিত; অথবা
- যন্ত্রপাতি বা সরঞ্জামাদি লিজ অথবা হায়ার পার্চেজ ব্যবসায় নিয়ােজিত; অথবা
- পুঁজি সরবরাহকারী, মার্চেন্ট ব্যাংক, ইনভেস্টমেন্ট কোম্পানী, মিউচুয়াল এসােসিয়েশন, মিউচুয়াল কোম্পানী, লিজিং কোম্পানী অথবা বিল্ডিং সােসাইটি এর অন্তর্ভুক্ত।
গৃহনির্মাণ ঋণের বিপরীতে ব্যাংকের অনুকূলে সম্পাদিত বন্ধকী দলিলের স্ট্যাম্প শুল্ক সম্পর্কিত বিধান কী?
অর্থ ও পরিকল্পনা বিভাগের S.R.O. No.-135-L/83 MF&P/IRD-1/8/83 ST/178 Dated 18.4.83 এর প্রেক্ষিতে ৫.৫.১৯৮৩ তারিখের আইটি-১/৭৯/৪৯৫৯(১৯) নং স্মারকে “গৃহ নির্মাণ ঋণদান সংস্থা এবং ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকসমূহ (জাতীয়করণকৃত) আদেশ অনুযায়ী সৃষ্ট ব্যাংকসমূহ” কর্তৃক প্রদত্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে উক্ত সংস্থা বা ব্যাংকের অনুকূলে সম্পাদিত বন্ধকী দলিলের স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফ করা হয়েছিল।
পরবর্তীতে অর্থ মন্ত্রণালয়ের অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের এস.আর.ও নং-১৭৮/৯৩ তারিখ ০৮ সেপ্টেম্বর, ১৯৯৩ মূলে পূর্বোক্ত এস.আর.ও-এর বিধান হতে “১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংকসমূহ (জাতীয়করণকৃত) আদেশ অনুযায়ী সৃষ্ট ব্যাংকসমূহ” অংশ বিলুপ্ত করা হয়েছে। ফলে, গৃহ নির্মাণ ঋণদান সংস্থা কর্তৃক প্রদত্ত গৃহ নির্মাণ ঋণ প্রদানের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফ তবে রেজিস্ট্রেশন ফিস প্রযােজ্য।
গৃহ নির্মাণ ঋণদান সংস্থা ব্যতীত অন্য কোন রাষ্ট্রায়ত্ত তফসিলি ব্যাংক অথবা আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সম্পাদিত রেহেন দলিলের ক্ষেত্রে স্ট্যাম্প শুল্ক মওকুফ হবে না। উল্লেখ্য, এ বিষয়ে নিবন্ধন পরিদপ্তরের ৩০.০৮.১৯৯৯ তারিখের নিপ/বিবিধ/১২২২১ নং স্মারকে বিষয়টি পুনরায় স্পষ্টীকরণ করা হয়েছে।
বন্ধকী দলিলের ক্ষেত্রে আয়কর আইনের 53H ধারা মােতাবেক অগ্রিম আয়কর প্রযোজ্য কি না?
জাতীয় রাজস্ব বাের্ড ১০/০৮/২০১৪ খ্রি. তারিখের নথি নং- ০৮.০১.০০০০.০৩০.০৭.০০৫.২০১৪/৭৭ অনুযায়ী - কর নীতি শাখা এই মর্মে স্পষ্টীকরণ করছে যে, রেজিস্ট্রেশন আইন, ১৯০৮ (১৯০৮ সালের XVI নং আইন) এর ধারা ১৭ এর উপধারা (১) এর ক্লজ (cc) অনুসারে বন্ধকী দলিল রেজিস্ট্রেশনের ক্ষেত্রে অগ্রীম আয়কর সংগ্রহ করার বিধান প্রযােজ্য হবে না।
আয়কর অধ্যাদেশ, ১৯৮৪ - এর ৫৩এইচ ধারা মােতাবেক ব্যাংক এবং আর্থিক প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে সম্পাদিত বন্ধকী দলিল রেজিস্ট্রির ক্ষেত্রে অগ্রিম আয়কর আদায়ের বিধান প্রযােজ্য নয়।
বন্ধকী দলিলের রেজিস্ট্রেশন কি বাধ্যতামূলক?
রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭(১)(বি) অনুযায়ী বন্ধকী দলিল বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধনযােগ্য ছিল। কিন্তু ধারা ১৭(২)(রােমান দশ) এর বিধান অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকসহ আরও কতিপয় প্রতিষ্ঠানকে বন্ধকী দলিল বাধ্যতামূলকভাবে নিবন্ধন করা থেকে অব্যাহতি প্রদান করা হয় এবং সেক্ষেত্রে বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংককে রেজিস্ট্রেশন আইনের ধারা ৮৯ অনুযায়ী ব্যবস্থা গ্রহণ করার বিশেষ বিধান করা হয়। অর্থাৎ বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জন্য বিশেষ বিধান প্রযােজ্য।
রেজিস্ট্রেশন আইন সংশােধন করে ধারা ১৭(১)(সিসি) হিসেবে যে বিধান অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে তা একটি সাধারণ বিধান। বিশেষ বিধান সর্বদাই সাধারণ বিধানের ব্যতিক্রম হিসেবে প্রযােজ্য হয়ে থাকে। সে অনুযায়ী বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জন্য প্রযােজ্য বিশেষ বিধান তথা ধারা ১৭(২)(রােমান দশ) এবং ধারা ৮৯(৩) উক্ত সাধারণ বিধানের তথা ধারা ১৭(১)(সিসি)-এর ব্যতিক্রম হিসেবে প্রযােজ্য হবে; অর্থাৎ ধারা ১৭(১)(সিসি)-এর বিধান বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের জন্য প্রযােজ্য হবে না। (সূত্রঃ আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ড্রাফটিং উইং-এর স্মারক নং আইন মতামত-৮/১০০/০৫-৪০০লে:প্র: তারিখ ০৬.০৭.২০০৫)।
তবে, ২০১৫ সালে আইন ও বিচার বিভাগ হতে এ মর্মে মতামত প্রদান করা হয় যে, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত যে কোন কৃষি ঋণের বন্ধকী দলিল রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭(২) ধারার (দশ) দফায় অব্যাহতিপ্রাপ্ত নয়। বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংক কর্তৃক প্রদত্ত The Agriculturist's Loans Act, 1884-এর ৪(১) ধারায় বর্ণিত কৃষিঋণ ব্যতীত অন্যান্য ঋণ বাবদ বন্ধকী দলিলের ক্ষেত্রে রেজিস্ট্রেশন আইনের ১৭(১)(সিসি) ধারা প্রযােজ্য হবে। (সূত্রঃ আইন ও বিচার বিভাগের স্মারক নং-আর-৬/১এম-০১/২০১৪-১২২ তারিখ ২৯.০৪.২০১৫ খ্রিস্টাব্দ]
ব্যাংক ঋণ পরিশােধের পর বন্ধকী দলিল বাতিল করা বাধ্যতামূলক কি না?
ব্যাংক হতে ঋণ গ্রহণের সময় ব্যাংক এর অনুকূলে যে বন্ধককৃত সম্পত্তির দলিল রেজিস্ট্রি করা হয় ঋণ পরিশােধের পর ঐ বন্ধক দলিল বাতিল করতে হবে পূনঃসমর্পণপত্র (Re-conveyance of mortgage property) দলিল রেজিস্ট্রি না করা পর্যন্ত বর্ণিত সম্পত্তি সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের নিকট দায়বদ্ধ থেকে যায়। সে কারণে সংশ্লিষ্ট ব্যাংক কর্তৃক বন্ধককৃত সম্পত্তি পূনঃসমর্পণপত্র মূলে বন্ধকদাতা পক্ষের অনুকূলে রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে পুনঃসমর্পণ করতে হবে।
তাছাড়া, বর্তমানে ব্যাংকের বরাবরে অপ্রত্যাহারযােগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল রেজিস্ট্রির বিধান প্রবর্তিত হওয়ায় উভয় পক্ষ কর্তৃক উক্ত অপ্রত্যাহারযােগ্য পাওয়ার অব অ্যাটর্নি দলিল বাতিল বা রদ করা সমীচীন।
সম্পত্তি হস্তান্তর আইন অনুযায়ী “বন্ধকী দলিল” বলতে কি বুঝায়?
১৮৮২ সালের সম্পত্তি হস্তান্তর আইনের ৫৯ ধারা মােতাবেক রেহেনের আসল মূল্য একশত টাকা বা ততােধিক হলে, দলিল জমা দেওয়া রেহেন ব্যতীত অন্যান্য রেহেন কেবলমাত্র দলিলদাতা কর্তৃক স্বাক্ষরিত ও দুইজন স্বাক্ষী কর্তৃক প্রত্যয়িত রেজিস্ট্রি দলিল দ্বারাই সম্পাদন করা যেতে পারে। রেহেনের আসল মূল্য একশত টাকার কম হলে, উক্তরূপ স্বাক্ষরিত ও প্রত্যয়িত দলিল দ্বারা অথবা সাধারণ রেহেন ব্যতীত অন্যান্য ক্ষেত্রে সম্পত্তির দখল অর্পণ দ্বারা রেহেন কার্যকর করা যেতে পারে।
তবে শর্ত থাকে যে, সরকার বা ১৯৭২ সালের বাংলাদেশ ব্যাংক অর্ডার অনুযায়ী কোন তফসিলি ব্যাংক অথবা ১৯৯৩ সালের ফিন্যান্সিয়াল ইন্সটিটিউশন আইনের সংজ্ঞানুযায়ী কোন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের নিকট স্বত্বের দলিল জমার মাধ্যমে বন্ধকের ক্ষেত্রেও শুধুমাত্র রেজিস্ট্রিকৃত দলিলের মাধ্যমে বন্ধক কার্যকর হয়। রেজিস্ট্রেশন (সংশােধনী) আইন, ২০০৪-এ ১৭(১)(সিসি) ধারার সংযােজনের মাধ্যমে সম্পত্তি হস্তান্তর আইন, ১৮৮২-এর ৫৯ ধারায় মূল্য নির্বিশেষে বন্ধকী দলিলসমূহের রেজিস্ট্রেশন বাধ্যতামূলক করা হয়েছে।